


শাহ আলম, কুড়িগ্রাম:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনেই নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় এবার কুড়িগ্রামের মাঠের লড়াইয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রতিটি আসনেই চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস, আর প্রার্থীরা জয়ের জন্য সবচেয়ে বেশি তাকিয়ে আছেন তরুণ ভোটারদের দিকে।
কুড়িগ্রামের চারটি আসনে এবার মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৯৩৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ জন এবং নারী ভোটার ৯ লাখ ৫৪ হাজার ২০৯ জন। প্রায় ১৩ হাজার নারী ভোটার বেশি থাকায় নারী ও নতুন যুক্ত হওয়া ১ লাখ ১৭ হাজার ভোটারের রায় ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখা হচ্ছে ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের, যাদের সংখ্যা ৬ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি।
কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী): এই আসনে মোট ছয়জন প্রার্থী লড়ছেন। জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও মূল আলোচনা চলছে বিএনপির সাইফুর রহমান রানা এবং জাতীয় পার্টির এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের মো. হারিসুল বারীও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী): কুড়িগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে সবচেয়ে বেশি আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এখানে লড়াই মূলত চতুর্মুখী। বিএনপির মো. সোহেল হোসেন কায়েদবাদ, ১০ দলীয় জোট ও এনসিপির প্রার্থী আতীকুর রহমান মোজাহিদ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর): উলিপুরের এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হবে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে। ১০ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম এবং বিএনপির তাসফিরুল ইসলাম মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের ডা. মো. আক্কাস আলী সরকারও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
কুড়িগ্রাম-৪ (রৌমারী, রাজিবপুর ও চিলমারী): এই আসনে সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখানে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে দুই সহোদর ভাই একে অপরের মুখোমুখি হয়েছেন। বিএনপির মো. আজিজুর রহমান এবং জামায়াত ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান আপন ভাই হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে অন্যরকম আগ্রহ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অতীতে কুড়িগ্রাম থেকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বেশি নির্বাচিত হওয়ায় সরকারের সাথে সমন্বয়ের অভাবে জেলার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে অনেকের ধারণা। তাই এবার ভোটাররা উন্নয়নবান্ধব ও দক্ষ নেতৃত্বকে বেছে নিতে চান। তরুণ ভোটাররা কর্মসংস্থান, উন্নত শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে প্রার্থীর যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে দীর্ঘদিনের একক আধিপত্য ভেঙে নতুন কোনো শক্তির উত্থান ঘটার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের ভোটাররা তাঁদের আগামী দিনের কর্ণধার নির্বাচিত করবেন।