


লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে ভোটের ছয়টি সিল তৈরি করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ী ও জামায়াতের এক নেতা আটক হয়েছেন। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জামায়াত নেতার নির্দেশেই সিলগুলো বানানো হচ্ছিল।
সোমবার রাতে সদর থানা পুলিশ এসআই হুমায়ুন কবিরের হাতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আটককৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী।
গ্রেপ্তাররা হলেন সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সোহেল। তিনি জেলা শহরের পুরাতন আদালত সড়কের মারইয়াম প্রিন্টার্সের মালিক। অপরজন জামায়াতের নেতা সৌরভ হোসেন শরীফ, যিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সেক্রেটারি ও দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে সোহেলের দোকান থেকে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিল, একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল জব্দ করা হয়। পরে সোহেলকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। তদন্তে তার দেওয়া তথ্য, কথোপকথন ও ভয়েস ম্যাসেজের প্রমাণের ভিত্তিতে সৌরভ হোসেইন শরীফকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।
সিল জব্দের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে বিএনপি ও জামায়াত পাল্টাপাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি অভিযোগ করেন, সিলকাণ্ডে জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং আটক সোহেলও জামায়াতের কর্মী।
এর প্রতিক্রিয়ায় একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম বলেন, সিলসহ আটক সোহেল জামায়াতের কেউ নয়। তবে তিনি সৌরভ হোসেইন শরীফের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি।
জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার পরপরই আমরা সৌরভ হোসেন শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করেছি এবং বিষয়টি নিয়ে প্রেস রিলিজ দেওয়া হবে।