Date: February 10, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / বিশেষ নিবন্ধ / দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

January 11, 2026 05:00:47 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

মুসলিম আইনানুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে করা জায়েজ হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি আগে গুরুত্বর অপরাধ ও নৈতিকতার লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হতো। তবে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক রায়ে এই দীর্ঘদিনের প্রথা বদলাতে যাচ্ছে।

হাইকোর্ট জানিয়েছে, এবার থেকে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে। মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি নয়, বরং বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে।

এ পর্যন্ত প্রচলিত ছিল, স্ত্রী বা প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। তবে আদালত বলেছে, মুসলিম পারিবারিক আইনে সরাসরি এমন বাধ্যবাধকতার কোনো বিধান নেই। ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত আরও স্পষ্ট করেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতির বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলে ন্যস্ত থাকায় স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়।

১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন চালুর আগে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামী অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে মুসলিম পারিবারিক আইনে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল হয়েছে। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান ছিল।

এই রায়ের বিরুদ্ধে রিটকারীরা আপিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তারা বলছেন, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে বহু বিবাহের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে। তাদের দাবি, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই রিট দায়ের করা হয়েছিল।

সমাজবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, আর্থিক সক্ষমতা ও মনস্তাত্ত্বিক প্রলোভনের কারণে কিছু পুরুষ এই সুযোগ অপব্যবহার করতে পারেন। এর ফলে সমাজে অসাম্য ও পারিবারিক অস্থিরতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে গেলে বিষয়টি নতুন বিতর্ক ও জনসচেতনতার জন্ম দেবে এবং সমাজে মুসলিম পারিবারিক আইন সম্পর্কিত নীতিমালার পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি করবে।