Date: February 10, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সম্পাদকীয় / পবিত্র মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

পবিত্র মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন

April 01, 2025 08:57:54 PM   অনলাইন ডেস্ক
পবিত্র মসজিদের মাইক ব্যবহার করে মানুষ হত্যা বন্ধ করুন

মসজিদ প্রত্যেক মুসলমানের কাছে একটি পবিত্র স্থান। মসজিদের মাইক থেকে দিনে পাঁচবার নামাজের আহ্বান জানিয়ে আজান দেওয়া হয়। তাই মসজিদের মাইকের ঘোষণার প্রতি মুসলমানদের রয়েছে অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস। কিন্তু কিছু কুচক্রী মহল পবিত্র মসজিদের মাইক ব্যবহার করে অপবিত্র কাজে। ঘটায় হত্যাকাণ্ড, বসতবাড়ি লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো ভয়াবহ ঘটনা।

ঈদুল ফিতরের দিনে নরসিংদীর পলাশে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে দুই সহোদর ভাই নিহত হয়েছে। এ সময় তাদের বাঁচাতে গেলে মা ও বাবাকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। তবে নিহতের চাচী হাজেরা বেগমের অভিযোগ, চাঁদা না দেয়ায় দুই ভাইকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে অটোরিকশার ব্যাটারি চোরকে গণপিটুনিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত বলে খবরে প্রকাশ। পরে রাতে নিহত সাকিবের ভাই রাকিব লোকজন নিয়ে কর্তাতৈল এলাকায় গেলে মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত পড়েছে’ ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করা হয়। পরে গ্রামবাসী গণপিটুনি দিলে তাদের দুই ভাইয়েরই মৃত্যু হয়।

সোমবার (৩১ মার্চ) রাতে পলাশ উপজেলার কর্তাতৈল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় হাবিব, ওসমান ও রঞ্জু নামে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, নিহত রাকিব ও তার বাবা আশ্রাফ উদ্দিন বিদেশে লোক পাঠাতো। বিদেশে লোক পাঠানো নিয়ে এলাকার কিছু লোকের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব চলছিল। সোমবার ঈদ উপলক্ষে সাকিব ও তার বন্ধুরা ঘুরতে বের হয়। তারা কর্তাতৈল এলাকায় বেড়াতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। ওই সময় দুর্বৃত্তরা সাকিবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এই খবর পেয়ে তার ভাই রাকিব ও তার মা-বাবাসহ স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত ডাকাত ঘোষণা দেওয়া হলে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে এলাকাবাসী একজোট হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। নিহতদের মা-বাবাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, পলাশের কর্তাতৈল এলাকায় সজল নামে একজনের অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির দায়ে হিমেল নামে একজনকে মারধর করা হয়। ওই সময় নিহত রাকিব শুনতে পায়, তার চাচাকে মারধর করা হয়েছে। এই খবরে রাকিব সেখানে যায় এবং হৈচৈ করেন, তাকে সেখানে আটক করে পিটুনি দিতে থাকে। খবর পেয়ে রাতে রাকিবের ভাই সাকিব লোকজন নিয়ে কর্তাতৈল এলাকায় যায়। তখন এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মসজিদে মাইকিং করা হয়। পরে গ্রামের লোকজন তাদের পিটুনি দেয়। এরপর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিলে সাকিবকে মৃত ও অন্যদের ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেয়ার পথে রাকিবও মারা যায়।

গত ২৪ শে ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার ছিদামহাট গ্রামে মসজিদের মাইক থেকে হেযবুত তওহীদের সদস্যদের ‘হিন্দু’ আখ্যা দিয়ে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালানোর আহ্বান জানানো হয়। দূর দূরান্ত থেকে লোকজন এসে সংগঠনটির সদস্যদের ওপর হামলা করে, তাদের বাড়ি-ঘর লুটপাট করে শেষে ছয়টি বাড়ি ভস্মীভূত করে দেওয়া হয়।

মসজিদের মাইক দিয়ে মিথ্যা প্রচার করে জানমালের ক্ষতি করার ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে আরো বহুবার ঘটতে দেখা গেছে। সব ঘটনায় হত্যাকাণ্ড বা লুটপাটের বিষয়ে মামলা হয়েছে। কোনো ঘটনাতেই মসজিদের মুয়াজ্জিন বা মসজিদ কমিটির কারো বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয় নাই। ভুক্তভোগীরা ধর্মীয় মূল্যবোধের কারণে মুয়াজ্জিন বা মসজিদ কমিটির কারো নামে মামলা না করলেও পুলিশ বা রাষ্ট্র দায় এড়াতে পারে না। যাদের ঘোষণায় ভয়ঙ্কর ধরনের হামলা, হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে তাদেরকে বারবার আইনের বাইরে থেকে যেতে আমরা দেখছি। ফলে মসজিদের মাইকের অপব্যবহার আজ পর্যন্ত বন্ধ হয়নি। মসজিদের মাইকের অপব্যবহার বন্ধ করতে হলে মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটির কর্মকর্তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।