Date: February 10, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / প্রবাস / বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম পেলেন কানাডার এমপি মনোনয়ন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম পেলেন কানাডার এমপি মনোনয়ন

February 04, 2026 05:39:53 PM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম পেলেন কানাডার এমপি মনোনয়ন

কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন। দীর্ঘদিনের লিবারেল দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনটি সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের বিদায়ের পর শূন্য হয়ে যাওয়ায় ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগমকে মনোনয়নকারী হিসেবে।


কানাডার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে লিবারেল পার্টি অব কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, আসন্ন ফেডারেল উপ-নির্বাচনে ডলি বেগম প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
ডলি বেগম ২০১৮ সাল থেকে স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি হিসেবে কুইন্স পার্কে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। তিনি কেবল একজন আইনপ্রণেতা নন, বরং অন্টারিও এনডিপির ডেপুটি লিডার ও বিরোধী দলের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবেও পরিচিত। পরপর তিনবার নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রভাব স্থাপন করেছেন।


লিবারেল পার্টি অব কানাডার প্রেসিডেন্ট সাচিত মেহরা বলেন, “ডলি বেগমের জনসেবার রেকর্ড সত্যিই অনন্য। তিনি শুধু দক্ষ রাজনীতিক নন, বরং সাধারণ মানুষের আশা ও আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন নতুন টিমে তার সংযুক্তি কানাডাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”


ডলি বেগম নিজে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল কারণ প্রধানমন্ত্রী কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্ব। তিনি বলেন, “গত সাত বছর ধরে স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের ক্রান্তিলগ্নে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে আমি সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তিনি এগিয়ে যাবেন।


ডলি বেগমের জন্ম ও শৈশব বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার মনু নদীর পাড়ে। বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের হাত ধরে মাত্র ১২ বছর বয়সে কানাডায় পাড়ি জমান। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করার পর লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।


টরোন্টো প্রবাসী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব দেলোয়ার এলাহী বলেন, “লিবারেল পার্টি ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করে যে, ব্যক্তির সততা, কর্মদক্ষতা, জনসংযোগ এবং বহুজাতিক ও বহুধর্মের কানাডার মানুষের সমতার রাষ্ট্রীয় দর্শন গ্রহণ ও চর্চার মানেই রাজনীতির মূলধারায় গ্রহণযোগ্যতা অর্জন সম্ভব। ডলি বেগম এই ক্ষেত্রে সর্বাগ্রগণ্য।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাদেশিক রাজনীতির পর ফেডারেল পর্যায়ে ডলি বেগমের পদার্পন তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি, কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে তার সাফল্য বাংলাদেশি সম্প্রদায় এবং নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।