


বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া জটিল পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ম্যাচ না খেলার অনুরোধ জানায়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদ (আইসিসি) সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে এবং বিশ্বকাপের অংশ হিসেবে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এর প্রেক্ষিতে পাকিস্তান দল বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সমগ্র ঘটনায় আইসিসির সাবেক হেড অব কমিউনিকেশনস সামি-উল-হাসান বার্নি মনে করেন, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) যদি মোস্তাফিজের বাদ পড়ার ঘটনা ভালোভাবে সামলাত, তবে এত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতো না।
বার্নি পিটিআইকে জানান, “ক্রিকেট প্রশাসকরা যদি আরও সতর্ক হতেন এবং কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে একজন বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে বাদ দিতে হলে তা প্রকাশ্যভাবে না ঘোষণা করতেন, তাহলে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। বিষয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়ে খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেওয়া যেত, আর তা এতদূর গড়ে উঠত না।” তিনি আরও যোগ করেন, “কখনও কখনও বিচার-বুদ্ধির ভুল এই ধরনের পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যায়, যার প্রভাব অনেক বিস্তৃত হয়। ৩ জানুয়ারি যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা এই পরিস্থিতির মূল কারণ।”
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিরোধ পাকিস্তানের বিষয় কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে বার্নি বলেন, “আমরা একমত হতে পারি বা না-ও পারি, কিন্তু যখন একটি সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা তাৎক্ষণিক দৃশ্যমান বিষয়গুলোর বাইরে অনেক বিষয় বিবেচনা করে।”
আইসিসি ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছে যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে পারে। এর মধ্যে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা এবং রাজস্ব ক্ষতির মতো পরিণতি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে বার্নি জানাচ্ছেন, পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল। তিনি বলেন, “এগুলো সহজ সিদ্ধান্ত নয়। অবশ্যই আইনি ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।”
বার্নি আরও বলেন, ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান ম্যাচ বর্জন করলে সব দিক বিবেচনায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তানের বার্ষিক আয় প্রায় ৩৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, তাই এ ধরনের ক্ষতির পরিমাণ সত্যিই বিশাল।