


রাজধানীতে দুই দিনের মধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয় নারীর মরদেহ উদ্ধার, পারিবারিক কলহ ও রহস্যজনক পরিস্থিতি তদন্তে পুলিশ।
রাজধানীর মগবাজার, গুলশান, বাড্ডা, মিরপুর, ডেমরা ও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গত শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত অন্তত ছয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতরা হলেন—যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া আদর্শবাগের আশা আক্তার, বাড্ডা থানার আফতাবনগরের সুবর্ণা আক্তার, বড় মগবাজার এলাকার শম্পা আক্তার, গুলশান কালাচাঁদপুর এলাকার সাদিয়া রহমান মীম, ডেমরার পূর্ব বক্সনগরের কোহিনূর এবং মিরপুর ১০ নম্বরের শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম মিম।
রোববার হাতিরঝিল থানার বড় মগবাজার এলাকার একটি বাসা থেকে শম্পা আক্তারের (২৬) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি তার স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, পারিবারিক কলহের জেরে শম্পা নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
একইদিনে গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে সাদিয়া রহমান মীম (২৭) নামে এক তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মীমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত লক্ষ্য করা যায়। তিনি একটি বিউটি পার্লার ও বারে কর্মরত ছিলেন।
এর আগে শনিবার আফতাবনগরের বাঘাপুরে ভাড়া বাসা থেকে সুবর্ণা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার স্বামী আজহারুল জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে ঝগড়ার এক পর্যায়ে সুবর্ণা গলায় ফাঁস নেন। এছাড়া, মিরপুর ১০ নম্বর থেকে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা ইসলাম মিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ভাই জানিয়েছেন, পারিবারিক বিষয়ে অভিমান করে মিম শনিবার সকালে সিলিং ফ্যানে ফাঁস নেন।
পূর্বের দিনগুলোতেও আশার আক্তার ও কোহিনূরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। আশা আক্তারের ক্ষেত্রে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তার স্বামী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডেমরার পূর্ব বক্সনগর থেকে কোহিনূরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্বজনরা জানান।
উল্লেখ্য, এই ঘটনায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।