


শিশুর অতিরিক্ত চঞ্চলতা প্রাক-প্রাথমিক ও ছোট বয়সী শিশুদের মধ্যে সাধারণত স্বাভাবিক বিকাশের অংশ হিসেবে দেখা যায়। ছোট শিশুদের মনোযোগের সময় সীমিত থাকে, তারা এক কাজ থেকে অন্য কাজে দ্রুত সরে যায় এবং প্রাকৃতিকভাবে উদ্যমী ও প্রাণবন্ত থাকে। অনেক সময় শিশুর মনোযোগ তার আগ্রহের ওপর নির্ভর করে; কোনো কাজের প্রতি আগ্রহ থাকলে তারা মনোযোগ দিতে পারে, আর আগ্রহ না থাকলে দ্রুত বিরক্ত হয়ে যায়। এমন চঞ্চলতা প্রাকৃতিকভাবেই শিশুদের বিকাশে সাহায্য করে এবং সাধারণত কোনোরকম সমস্যা সৃষ্টি করে না।
তবে এই চঞ্চলতা যখন শিক্ষা, বন্ধুত্ব বা দৈনন্দিন জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলে, মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, অথবা শিশুর আচরণে অতিরিক্ত আবেগপ্রবণতা, ঝুঁকি নেওয়া বা বিপজ্জনক কাজে জড়ানো দেখা দেয়, তখন তা দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে। এই ধরনের আচরণ এডিএইচডি (অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার) বা অন্যান্য অন্তর্নিহিত সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। এছাড়া ঘুমের অভাব, উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা শেখার সমস্যাও চঞ্চল আচরণের পেছনে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুর চঞ্চলতা তখনই সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করতে পারে যখন তা দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা ও সামাজিক জীবনে বাধা সৃষ্টি করে, এক জায়গায় স্থির থাকতে না পারা বা সারাক্ষণ অতিরিক্ত নড়াচড়া করা, অন্যদের কথা না শোনা বা নিয়মিত ঝুঁকি নেওয়ার মতো আচরণ দেখা দেয়। মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা বা সহজে বিভ্রান্ত হওয়াও সতর্কতার লক্ষণ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে পিতামাতাদের উচিত শিশুর আচরণ পর্যবেক্ষণ করা এবং সঠিক বয়সসীমার মধ্যে চঞ্চলতা হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখা। যদি আচরণ দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করে বা সমস্যার মাত্রা বাড়ে, তবে দেরি না করে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি একটি নিয়মিত রুটিন, শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিক নিয়মকানুন শিশুর আচরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করান, সব চঞ্চল শিশুই ADHD-তে আক্রান্ত নয়, তাই সঠিক কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পেশাদার মতামত অপরিহার্য।