


সাত সরকারি কলেজকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সব প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রোববার (১৮ জানুয়ারি) খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী।
মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আইনি দিকগুলো যাচাই করতে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও অন্তর্ভুক্ত সাতটি কলেজ তাদের নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও ঐতিহ্য বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই কাঠামো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ব্যবস্থার সঙ্গে মিল থাকলেও তা পুরোপুরি একই রকম নয় বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় যেসব কলেজ থাকবে, সেগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এসব কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে নানা বাস্তবতা ও জটিলতার কারণে আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অধ্যাদেশের খসড়া তৈরির সময় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যৌক্তিক প্রত্যাশা, মতামত এবং উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় একাডেমিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের এই প্রক্রিয়া সফলভাবে বাস্তবায়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যেকোনো ধরনের অবান্তর বা সংঘাতমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়।