Date: April 28, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / উত্তাল সমুদ্রের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের জামাতে নামাজ, কক্সবাজারে অনন্য দৃশ্য - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্র...

উত্তাল সমুদ্রের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের জামাতে নামাজ, কক্সবাজারে অনন্য দৃশ্য

April 28, 2026 06:15:17 PM   অনলাইন ডেস্ক
উত্তাল সমুদ্রের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের জামাতে নামাজ, কক্সবাজারে অনন্য দৃশ্য

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে উত্তাল সাগর, গর্জন করা ঢেউ আর বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এক ভিন্ন ও প্রশান্তিময় দৃশ্য দেখা গেছে। ভ্রমণে আসা একদল মাদ্রাসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমুদ্রের বালিয়াড়িতে জামাতে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। প্রকৃতির ভয়ংকর রূপের মাঝেও এই ধর্মীয় অনুশীলন পর্যটকদের মাঝে সৃষ্টি করেছে বিশেষ এক আধ্যাত্মিক অনুভূতি ও আলোচনা।

কক্সবাজারে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে আকাশজুড়ে ছিল ঘন মেঘ, বাতাসে তীব্রতা এবং সাগরে উচ্চ ঢেউ। ৩ নম্বর সতর্কসংকেত চলমান থাকায় পর্যটকদের সাগরে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি ছিল। এমন প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দেখা যায় ভিন্ন এক চিত্র—সাগরের ভেজা বালিয়াড়িতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করছেন একদল পর্যটক।

নরসিংদীর খিদিরকান্দি এলাকার ‘খাইরুল উম্মাহ আস-সালাফিয়াহ’ মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ৯৫ সদস্যের একটি দল বার্ষিক ভ্রমণে কক্সবাজারে আসে। তাদের মধ্য থেকে প্রায় ৩০ জনের একটি দল দুপুরে সৈকতে নামাজ আদায় করেন।

নামাজের ইমামতি করেন হাফেজ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ। তিনি জানান, সকালে দলটি কক্সবাজারে পৌঁছে একটি গেস্ট হাউসে অবস্থান নেয়। পরে প্রায় ৩০ জনের দলটি লাবণী পয়েন্টে গিয়ে সমুদ্রস্নান ও ফুটবল খেলায় অংশ নেয়। সময়মতো জোহরের নামাজের সময় হলে তারা সৈকতের বালিয়াড়িতে জামাতে নামাজ আদায় করেন এবং পরবর্তীতে আসরের নামাজও সেখানে সম্পন্ন করেন।

তিনি বলেন, সমুদ্রের গর্জন আর প্রকৃতির বিশালতার মাঝে নামাজ আদায় করা এক অনন্য ও প্রশান্তিময় অনুভূতি। আল্লাহর সৃষ্টি দেখার উদ্দেশ্যেই তারা এই ভ্রমণে এসেছেন এবং প্রকৃতির মাঝে ইবাদতের মাধ্যমে গভীর মানসিক প্রশান্তি পেয়েছেন।

মাদ্রাসার প্রধান মোহাম্মদ সালিমুল্লাহ বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে পৃথিবীর বিভিন্ন নিদর্শন পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সমুদ্রও আল্লাহর অন্যতম বড় নিদর্শন। সেই উপলক্ষেই তারা এখানে ভ্রমণে আসেন এবং সময়মতো নামাজ আদায় করেন।

তিনি আরও বলেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর সৃষ্টি দেখা এবং তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। নামাজ আদায়ের মাধ্যমে তারা আত্মিক শান্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেছেন।

নামাজ শেষে দলটি আবার গেস্ট হাউসে ফিরে যায়। তারা জানান, দুই দিন কক্সবাজারে অবস্থান শেষে বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

উত্তাল সমুদ্রের মাঝে এমন ধর্মীয় অনুশীলন স্থানীয় ও পর্যটকদের মধ্যেও কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা কক্সবাজার ভ্রমণে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।