


গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের এক মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে নারী গ্রাহকের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত নারী বর্তমানে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের ধাপেরহাট বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সুপদ হালদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আহত নারী লাকী বেগম উপজেলার পালানপাড়া গ্রামের মিন্টু মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত ছালমা বেগম ব্র্যাকের ধাপেরহাট শাখার মাঠ সংগঠক হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাকী বেগম ব্র্যাক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। প্রায় দেড় বছর পার হলেও কিছু কিস্তি বকেয়া ছিল। বুধবার বেলা ১১টার দিকে ব্র্যাক অফিসের সামনে মাঠকর্মী ছালমা বেগম বকেয়া কিস্তির টাকা চাইলে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে অফিসের ভেতরে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। পরে লাকী বেগম বাড়িতে চলে যান।
এর কিছু সময় পর স্বামীকে নিয়ে আবার বাজারে এলে দ্বিতীয় দফায় বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ছালমা বেগম পাশেই থাকা একটি লাঠি দিয়ে লাকী বেগমের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আহত নারীর স্বামী মিন্টু মিয়া দাবি করেন, ঋণের প্রায় সব টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, মাত্র ১ হাজার ৫০০ টাকা বাকি ছিল। সামান্য ওই টাকার জন্য তার স্ত্রীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
অভিযুক্ত ছালমা বেগম লাঠি দিয়ে আঘাত করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, গ্রাহকের কাছে প্রায় তিন হাজার টাকা পাওনা ছিল। টাকা চাইতে গেলে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং পরে গ্রাহকের স্বামী তাকে মারধর করেন। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি আঘাত করেন।
এ ঘটনায় ব্র্যাকের ধাপেরহাট শাখা ব্যবস্থাপক আজহারুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী (ক্ষুদ্রঋণ) মোশাররফ হোসেন বলেন, “টাকা আদায়ের জন্য কোনো সদস্যকে আঘাত করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। ব্র্যাক অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই সুপদ হালদার জানান, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।