


নরসিংদীর রায়পুরায় আলোচিত এক মাদরাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ও জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা জুনায়েদ আহমদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ আত্মগোপনের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে রায়পুরা থানা-পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান।
গ্রেপ্তার হওয়া জুনায়েদ আহমদ নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি এলাকার মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং অভিযুক্ত মাদরাসারই মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, দুই মাস আগে রায়পুরা পৌর এলাকার হাসিমপুর-কলাবাড়িয়ার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসায় ভুক্তভোগী ছাত্রী এবং তার ছোট ভাইকে ভর্তি করা হয়। আবাসিকভাবে সেখানে থেকে পড়াশোনা করছিলেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) গভীর রাত প্রায় ২টার দিকে মাদরাসার মুহতামিম জুনায়েদ আহমদ ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। পরদিন সকালে অসুস্থতা অনুভব করলে ছাত্রীটি তার খালার বাসায় চলে যান। সেখানে খালার কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানানোর পর বিষয়টি পরিবারের কাছে পৌঁছে যায়।
পরবর্তীতে রোববার (২৬ এপ্রিল) ভুক্তভোগীর মা রায়পুরা থানায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে গ্রেপ্তারের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে অভিযুক্ত জুনায়েদ আহমদ ঘটনাটিকে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবি করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।