


ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনকে ঘিরে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রক্রিয়া তদারকি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় পৌঁছেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মধ্য দিয়ে রাজ্যের পরবর্তী নেতৃত্ব চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো ঘটনাকে ঘিরে বিজেপি শিবিরে ব্যস্ততা ও কৌতূহল চরমে।
শুক্রবার (৮ মে) বেলা ১১টার কিছু পর অমিত শাহকে বহনকারী বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি দক্ষিণেশ্বরে যান এবং মন্দিরে পূজা দেন। এরপর নিউ টাউনের একটি হোটেলে পৌঁছে দিনব্যাপী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি।
দুপুরে বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন অমিত শাহ। এই বৈঠকে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। সেখানে জয়ী বিধায়কদের মতামতের ভিত্তিতে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হবে, যিনি পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।
বৈঠকের আগে নিউ টাউনের হোটেলে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই হোটেলে তিনি রাত্রিযাপন করবেন বলেও জানা গেছে।
সূত্র অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল এবং রাজ্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীসহ শীর্ষ নেতারা।
বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার খসড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বণ্টন নিয়েও আগেই প্রাথমিক পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসবে এই বৈঠকের পর।
দলীয় একটি অংশের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন এবং মন্ত্রিসভা গঠনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (আরএসএস)-এর পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শনিবার (৯ মে) ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহসহ কেন্দ্রীয় ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
কলকাতায় অমিত শাহের এই সফরকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণার অপেক্ষায় পুরো রাজনৈতিক অঙ্গন।