Date: May 10, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রাজশাহী / বগুড়ায় রাহুল গ্রুপে শ্রমিক অসন্তোষ: ৮ ঘণ্টার কাজ ১২ ঘণ্টা, বেতন নিয়ে চরম টালবাহানা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে স...

বগুড়ায় রাহুল গ্রুপে শ্রমিক অসন্তোষ: ৮ ঘণ্টার কাজ ১২ ঘণ্টা, বেতন নিয়ে চরম টালবাহানা

May 10, 2026 12:48:57 PM   জেলা প্রতিনিধি
বগুড়ায় রাহুল গ্রুপে শ্রমিক অসন্তোষ: ৮ ঘণ্টার কাজ ১২ ঘণ্টা, বেতন নিয়ে চরম টালবাহানা

বগুড়ার পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান রাহুল গ্রুপে শ্রমিক অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি শ্রম আইন উপেক্ষা করে অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়ে নেওয়া এবং প্রতিশ্রুত বেতন না দেওয়ার অভিযোগে সাধারণ শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। বছরের পর বছর এই প্রতিষ্ঠানে সেবা দিয়ে আসা শ্রমিকদের সাথে মালিকপক্ষের অপেশাদার ও অমানবিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের দেওয়া তথ্যমতে, কারখানায় বর্তমানে এক ধরণের অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শ্রমিকদের প্রধান অভিযোগ হলো, নিয়মানুযায়ী ৮ ঘণ্টা ডিউটি করার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তাদের জোর করে ১২ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নিচ্ছে। মজুরির ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় ধরণের বৈষম্য। যেখানে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা মাসিক বেতন দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে শ্রমিকদের হাতে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।

এ ছাড়া দীর্ঘ ২০-৩০ বছর ধরে কর্মরত বয়োজ্যেষ্ঠ শ্রমিকদের সাথে ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনের পুরনো অনেক শ্রমিক এখন তাদের মর্যাদা ও পাওনা নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই তাদের কর্মজীবনের শুরু থেকেই এই প্রতিষ্ঠানে আছেন। একজন শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি যখন এই গ্রুপে যোগ দেই, তখন দৈনিক বেতন ছিল মাত্র ৩০ টাকা। জীবনের সেরা সময়টা এই কারখানায় দিলাম, আর আজ ২০ বছর পর এসে অকারণে গালিগালাজ শুনতে হচ্ছে। ৮ ঘণ্টার কথা বলে আমাদের দিয়ে ১২ ঘণ্টা খাটানো হয়, কিন্তু মাস শেষে বেতন দেয় চাহিদার চেয়ে অনেক কম। এই অল্প টাকায় বর্তমান বাজারে পরিবার নিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, পাওনা ও অধিকারের দাবিতে ১০ মে শ্রমিকরা কারখানার সামনের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। শ্রমিকদের দাবি, মালিকপক্ষ তাদের সাথে দিনের পর দিন প্রতারণা করে আসছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে ৫-৬ হাজার টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব। তার ওপর কাজের চাপ বাড়িয়ে দিয়ে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে।

এই বিষয়ে রাহুল গ্রুপ কর্তৃপক্ষের রঞ্জিত মল্লিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে যেকোনো সময় বড় ধরণের শ্রমিক আন্দোলনের সূত্রপাত হতে পারে। শ্রমিকদের এই অসন্তোষ নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন ও শ্রম অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।