


২০২৬ সালের শুরুতেই আকাশে চোখ ধাঁধানো একটি মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে। জানুয়ারির ৩ তারিখে পূর্ণিমার রাতে আমরা দেখতে পাবো বছরের প্রথম উলফ সুপারমুন। সুপারমুন হল সেই পূর্ণিমা বা অমাবস্যা, যখন চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের অবস্থানে থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় পেরিজি। ২০২৬ সালের উলফ সুপারমুনের সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬২,৩১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করবে।
পৃথিবী থেকে এই দূরত্বে চাঁদকে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং প্রায় ৩০ শতাংশ উজ্জ্বল দেখাবে, বিশেষ করে যখন চাঁদ পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে। যদিও ডিসেম্বর ২০২৫-এর পূর্ণিমার চাঁদের সঙ্গে দূরত্বের পার্থক্য সামান্য, তবুও এক বিশেষ কারণে চাঁদের উজ্জ্বলতা আরও বাড়বে। জানুয়ারির এই সময় পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে, যা পেরিহেলিয়ন নামে পরিচিত। পেরিহেলিয়নের কারণে সূর্যের আলো সামান্য বেশি পরিমাণে পৃথিবী এবং চাঁদে পৌঁছায়, ফলে চাঁদ আরও উজ্জ্বল মনে হয়।
শীতকালে আকাশ সাধারণত পরিষ্কার এবং স্বচ্ছ থাকে, কারণ বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ কম থাকে। তাই উত্তর গোলার্ধের মানুষের জন্য ৩ জানুয়ারি রাতের আকাশে উলফ সুপারমুন দেখার এটি এক দুর্দান্ত সুযোগ। চাঁদ উপভোগ করতে কোনো বিশেষ যন্ত্রের প্রয়োজন নেই; কেবল চোখ আর ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা করার জন্য একটি কম্বলই যথেষ্ট।
সুপারমুনের ঘটনা চাঁদের কক্ষপথের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের ফল। চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি বৃত্তাকার নয়, বরং এটি সামান্য ডিম্বাকৃতির। ফলে চাঁদ কখনো পৃথিবীর কাছাকাছি আসে, কখনো দূরে থাকে। গড়ে চাঁদের দূরত্ব প্রায় ৩৮৪,৪০০ কিলোমিটার। বছরে প্রায় ১৩ বার চাঁদ পেরিজিতে আসে, তবে সবসময় সুপারমুন হয় না। শুধুমাত্র তখনই এটি সুপারমুন বলা হয়, যখন পেরিজির সময় পূর্ণিমা বা অমাবস্যা হয়।
পেরিজির দূরত্বও এক রকম থাকে না। সূর্যের মহাকর্ষ এবং দীর্ঘমেয়াদি পৃথিবী–চাঁদের সম্পর্কের কারণে এটি সামান্য পরিবর্তিত হয়। একইভাবে, পেরিহেলিয়নও প্রতি বছরের প্রায় একই সময়ে ঘটে, সাধারণত জানুয়ারির শুরুতে। এই সময়ে পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকে, প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে। এর ফলে চাঁদ সামান্য উজ্জ্বল দেখায়, সাধারণ পূর্ণিমার তুলনায় প্রায় ৬.৫ শতাংশ বেশি।
জানুয়ারির এই উলফ মুন এবছর আরও বিশেষ হয়ে উঠছে, কারণ এটি একসাথে আরও দুটি মহাজাগতিক ঘটনার সঙ্গে মিলে বিরল তিনগুণ উজ্জ্বলতার দৃশ্য তৈরি করবে। এ বছরের পরবর্তী পূর্ণ সুপারমুন দেখা যাবে ২৪ নভেম্বরের আগে নয়। তাই যারা আকাশের এই দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য জানুয়ারির উলফ সুপারমুন হলো এক বিরল সুযোগ।
সূত্র: সায়েন্স অ্যালার্ট