Date: April 30, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / জাতীয় / রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ পরিশোধে সময় ২৮ বছর! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ পরিশোধে সময় ২৮ বছর!

April 29, 2026 12:37:08 PM   দেশেরপত্র ডেস্ক
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ পরিশোধে সময় ২৮ বছর!

দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে সামনে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে রাশিয়ার বড় ধরনের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা রয়েছে, যার ৯০ শতাংশ ঋণ ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির উৎপাদন, নিরাপত্তা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে বিস্তারিত পরিকল্পনা।


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশ—প্রায় ৯০ শতাংশ—ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া। চুক্তি অনুযায়ী এই ঋণ ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ নিয়েও নতুন হিসাব উঠে এসেছে। শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রায় ৬ টাকা ধরা হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, তা বেড়ে প্রায় ১২ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন বাড়লে খরচ স্থিতিশীল হবে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেন্দ্রটির নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে ব্যবহৃত হয়েছে তৃতীয় প্রজন্মের রি-অ্যাক্টর প্রযুক্তি, যেখানে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী রাশিয়ায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আয়ুষ্কাল প্রায় ৬০ বছর, যা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরও প্রায় ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নয়, বরং দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি বড় মাইলফলক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ খুবই কম, যা পরিবেশবান্ধব শক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে।

জ্বালানি ব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত জটিল ও নিরাপদ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি জ্বালানি প্রথমে ছোট প্যালেট আকারে প্রস্তুত করা হয়, পরে সেগুলো ধাতব রড ও বান্ডেলে রূপান্তরিত করে চুল্লিতে ব্যবহার করা হয়।

২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে প্রথম চালান আকাশপথে বাংলাদেশে আসে এবং পরবর্তীতে আরও কয়েকটি চালান সড়কপথে রূপপুরে নেওয়া হয়। মোট ১৬৪টি জ্বালানি বান্ডেল বর্তমানে সংরক্ষিত রয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছে ৩১২টি জ্বালানি রড।

প্রথম ইউনিটে একসঙ্গে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি লোড করলে প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ব্যবহৃত জ্বালানি আন্তর্জাতিক নিয়মে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্যে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র নজরদারিতে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে।

রি-অ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। জ্বালানি লোডিং, স্টার্টআপ, ফিশন রিঅ্যাকশন এবং ধীরে ধীরে ক্ষমতা বৃদ্ধি করে প্রায় ১০ মাসের মধ্যে পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রথম তিন বছর জ্বালানি সরবরাহ করবে। এরপর বাংলাদেশকে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে, যা প্রতি দুই বছর পরপর পরিবর্তন করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নয়, বরং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।