


ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে শাশুড়ি জ্যোৎস্না রানী শীল হত্যা মামলায় জামাতা সুজিত শীলকে (৪২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) দুপুরে ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুজিত শীল ফুলপুর উপজেলার চনিয়া মোড় এলাকার অবলেশ শীলের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর রাতে হালুয়াঘাট উপজেলার কড়াইকান্দা এলাকায় স্ত্রী ইতি রানী শীল ও শাশুড়ি জ্যোৎস্না রানী শীলের ওপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান সুজিত শীল। এতে মা-মেয়ে দুজনই গুরুতর আহত হন।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উদ্ধার করে প্রথমে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্যোৎস্না রানী শীল মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বড় মেয়ে সন্ধ্যা রানী শীল বাদী হয়ে হালুয়াঘাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ, প্রমাণ উপস্থাপন ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত সুজিত শীলকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন। রায় ঘোষণার পর তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন।”
তবে রায়ের বিষয়ে আসামিপক্ষের কোনো তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।