


চলতি বছরের হজ মৌসুম শুরুর আগেই সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ আরও দুইজনের মৃত্যুতে মোট ছয়জন বাংলাদেশি হজযাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন, যা হজ প্রস্তুতির এই সময়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত পর্যন্ত এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত ছয়জনই পুরুষ এবং তাদের মধ্যে পাঁচজন মদিনায় ও একজন মক্কায় মারা গেছেন বলে জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ মৃত্যুবরণকারীদের মধ্যে রয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের মো. আব্দুল হাই (৬১), যিনি মদিনায় মারা গেছেন। একই দিনে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন শেরপুরের শ্রীবরদীর মো. আবদুল্লাহ আল মামুন (৫৮)। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা স্বাভাবিক কারণেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
এর আগে গত কয়েকদিনে আরও চারজন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা যান। ২৬ এপ্রিল দিনাজপুরের বিরামপুরের মো. খলিলুর রহমান (৬৪), ২৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের পাগলার মো. সেরাজুল হক (৬৬), ২২ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদরের মো. আবুল কাশেম (৭০) এবং ২১ এপ্রিল জয়পুরহাটের মো. নইম উদ্দীন মন্ডল (৭৫) মৃত্যুবরণ করেন। ধারাবাহিকভাবে এই মৃত্যুগুলো হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি করছে।
এদিকে, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরেশোরেই চলছে। এখন পর্যন্ত ৯২টি ফ্লাইটে মোট ৩৬ হাজার ৯৯৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ২৮৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩৩ হাজার ৭১২ জন রয়েছেন।
ফ্লাইট পরিচালনায় অংশ নিচ্ছে তিনটি এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৪০টি ফ্লাইট, সৌদি এয়ারলাইন্স ৩৪টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ৩১ মে পর্যন্ত সৌদি আরবে হজযাত্রী পরিবহন অব্যাহত থাকবে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ৩০ মে থেকে এবং আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সব হজযাত্রী দেশে ফিরবেন।
একদিকে যেমন হজের প্রস্তুতি ও যাত্রা অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে কয়েকজন হজযাত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হজযাত্রীদের সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।