


হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে টানা অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হাওরাঞ্চলে পানি ঢুকে ব্যাপক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুজাতপুর এলাকায় অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে খোয়াই নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে নদীর বাঁধ ভেঙে হাওরের ভেতরে ঢলের পানি প্রবেশ করে, ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের মতে, সুজাতপুরসহ আশপাশের অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে শত শত হেক্টর জমির আধাপাকা বোরো ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ধান কাটার একেবারে শেষ পর্যায়ে থাকা জমিগুলোতে।
কৃষকরা জানান, ধান কাটতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি ছিল। এমন অবস্থায় হঠাৎ পানি ঢুকে পড়ায় তারা চরম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছেন, যাতে কিছুটা হলেও ফসল রক্ষা করা যায়। তবে এতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে শুধু বানিয়াচং নয়, আজমিরীগঞ্জ উপজেলার হাওর এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে অধিকাংশ ফসলি জমি এখন পানির নিচে। কাটা ধান খলায় শুকানোর জন্য রাখা হলেও সেখানেও পানি ঢুকে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফসল।
ফসল হারানোর শঙ্কায় গ্রামীণ পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। অনেক কৃষকের বাড়িতে চলছে কান্না ও হতাশার পরিবেশ।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ফসলের সঠিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নির্ধারণের কাজ চলছে। অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বর্তমানে নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান জানান, ভেঙে যাওয়া বাঁধ দ্রুত মেরামত করা কঠিন। বৃষ্টি ও উজানের পানি কমে না এলে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।