Date: May 07, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / সিলেট / ধর্ষণে ১১ বছরের মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, সত্য প্রকাশ করায় চিকিৎসককে হত্যার হুমকি! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে...

ধর্ষণে ১১ বছরের মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, সত্য প্রকাশ করায় চিকিৎসককে হত্যার হুমকি!

May 07, 2026 12:35:30 PM   অনলাইন ডেস্ক
ধর্ষণে ১১ বছরের মাদরাসাছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, সত্য প্রকাশ করায় চিকিৎসককে হত্যার হুমকি!

পারিবারিক বিচ্ছেদের শিকার হয়ে নানীর আশ্রয়ে থেকে মাদরাসায় পড়ত ১১ বছরের এক শিশু। শৈশবের সেই চঞ্চল সময়ে যেখানে খেলাধুলা আর পড়াশোনায় মগ্ন থাকার কথা, সেখানে এক পাষণ্ডের লালসার শিকার হয়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হতে হয়েছে তাকে। এই ভয়াবহ সত্যটি সামনে এনে এখন নিজেই বিপদে পড়েছেন এক নারী চিকিৎসক। প্রভাবশালী মহলের রক্তচক্ষু আর হত্যার হুমকির মুখে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ডা. সায়মা আক্তার ও তার পরিবার।

নেত্রকোণার মদন উপজেলার ওই মাদরাসা ছাত্রী সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করার পর কর্তব্যরত সরকারি চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার জানতে পারেন, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এই বয়সে এমন শারীরিক ও মানসিক বিপর্যয় দেখে ডা. সায়মা শিউরে ওঠেন। একজন চিকিৎসকের পেশাগত দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক সচেতনতা থেকে তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।

তদন্তে উঠে আসে, ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত পক্ষ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার এবং স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু ডা. সায়মার দৃঢ় অবস্থানের কারণে সত্যটি আর চাপা থাকেনি।

সত্য তুলে ধরায় চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তারকে লক্ষ্য করে শুরু হয় ভয়াবহ আক্রমণ। তাকে অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, তাকে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার স্বামী মো. আসিফুল ইসলাম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। শুধু শারীরিক নয়, পেশাগতভাবেও ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালী একটি চক্র।

ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। মামলার প্রধান আসামি অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর আত্মগোপনে চলে গেলেও পুলিশের তৎপরতায় শেষ রক্ষা হয়নি। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

মদন থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, চিকিৎসকের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী ও মানবাধিকার কর্মীরা।