Date: May 11, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প!

May 11, 2026 10:34:20 AM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প!

যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবের জবাবে ইরানের পাল্টা প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম। সোমবার (১১ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটি পছন্দ করিনি— এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।” তবে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধ করে পরবর্তী সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। জবাবে ইরান কয়েকটি শর্ত তুলে ধরে।

তেহরানের দাবি ছিল— লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ করতে হবে, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করতে হবে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি ইরানি তেল রপ্তানির ওপর থাকা বাধাও তুলে নেওয়ার দাবি জানায় দেশটি।

ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তেহরান আরও চেয়েছে— ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালানো হবে না, এমন নিশ্চয়তা দিক যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যানের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের এই সংঘাত আরও জটিল আকার নিতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল সরবরাহ এই পথ দিয়েই হয়ে থাকে।

এদিকে চীন সফরের আগে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘পরাজিত’, তবে ‘শেষ হয়ে যায়নি’। ধারণা করা হচ্ছে, বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকেও ইরান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় থাকবে।

অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না। তিনি জানান, কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথ খোলা রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ইরান কখনো ‘শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না’ এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ লেবাননেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।