


লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী দিপালী বেগমের মরদেহ দীর্ঘ এক মাস পর দেশে ফিরেছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহটি পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সদস্যরা। সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
দিপালী বেগম বিদেশে কর্মরত অবস্থায় লেবাননে ইসরাইলি হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান। ঘটনার পর থেকেই তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ সরকার। দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা শেষে অবশেষে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশে কর্মরত অবস্থায় কোনো বাংলাদেশির মৃত্যু হলে তার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, এই ধরনের ঘটনাগুলোতে সরকার মানবিক দায়িত্ব হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আহমাদুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা মরদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
সরকারি পক্ষ থেকে জানানো হয়, দিপালী বেগমের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা হিসেবে ১৩ লাখ টাকা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত অবস্থায় যারা বিভিন্ন কারণে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছেন, তাদের পুনর্বাসনে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
দীর্ঘ এক মাস পর প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে আসায় দিপালীর পরিবারে চলছে শোকের আবহ। স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন বিমানবন্দর এলাকায়। স্থানীয়রাও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় প্রাণ হারানো দিপালী বেগমের দেশে ফেরা একদিকে যেমন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে, অন্যদিকে এটি আবারও প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।