Date: April 17, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / বাংলাদেশ / ঈদযাত্রায় কমলাপুরে জনস্রোত: ভিড়ে দমবন্ধ, ছাদেই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে জনস্রোত: ভিড়ে দমবন্ধ, ছাদেই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

March 18, 2026 08:35:35 PM   অনলাইন ডেস্ক
ঈদযাত্রায় কমলাপুরে জনস্রোত: ভিড়ে দমবন্ধ, ছাদেই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন-এ। ট্রেনের ভেতরে তীব্র ভিড় ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির কারণে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়ে যাত্রা করছেন। ঈদের আনন্দের আগে এমন দুর্ভোগ যেন যাত্রীদের জন্য এক কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যারা ট্রেনের আসন নিশ্চিত করতে পেরেছেন, তাদের মুখে স্বস্তির হাসি দেখা গেলেও অধিকাংশ যাত্রীকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। ট্রেনের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা নেই, বাতাস চলাচলেরও সুযোগ কম—ফলে অনেকেই দমবন্ধ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ছাদে উঠে পড়ছেন।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেশনে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে এবং টিকিট ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এত কড়াকড়ির পরও অতিরিক্ত যাত্রীচাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে ট্রেনের ছাদে ওঠা পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সিলেটগামী যাত্রী রশিদ মোল্লা জানান, স্ট্যান্ডিং টিকিট নেওয়ার পরও ট্রেনের ভেতরে দাঁড়ানোর মতো জায়গা পাওয়া যায়নি। ভেতরের শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে বাঁচতেই তিনি বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রামগামী যাত্রী যোবায়ের ফারুক ও আলামীনও।

স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ২২টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। সারাদিনে আন্তনগর ও লোকাল মিলিয়ে প্রায় ৬০টি ট্রেন চলাচল করবে। এর মধ্যে ৪৪টি আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ৬২ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন।

ttren-inaar.jpg

অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে তিন জোড়া ইতোমধ্যে চলাচল শুরু করেছে এবং বাকি দুই জোড়া ট্রেন ঈদের দিন থেকে চালু হবে। এদিন সকাল থেকেই ধূমকেতু, পর্যটক, পারাবত, নীলসাগর, সোনার বাংলা ও মহানগর প্রভাতীর মতো আন্তনগর ট্রেনের পাশাপাশি বলাকা, মহুয়া ও তিতাসের মতো লোকাল ট্রেনগুলোও যাত্রী নিয়ে ছেড়ে গেছে।

ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের এই ঢল যেমন উৎসবের আবহ তৈরি করেছে, তেমনি যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।