


দেশের কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ধাপে ধাপে দেশের লক্ষাধিক কৃষককে রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আনা হবে। কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন ও কৃষি খাতে আধুনিকায়নই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিক অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সড়কপথে ঢাকা থেকে যাত্রা করে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা দেরিতে পৌঁছানোর কারণে পূর্বনির্ধারিত মাজার জিয়ারতের সূচি পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন।
পরবর্তীতে জানা যায়, বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনি ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম করে তোলা হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, এই প্রকল্প তিন ধাপে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাবেন, যার মধ্যে রয়েছে—
কৃষি উপকরণ ও সেচ সেবা সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়ার সুযোগ
সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ গ্রহণের সুবিধা
সরকারি ভর্তুকি ও আর্থিক প্রণোদনা
আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতিতে বিশেষ ছাড়
মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও বাজার দরের তথ্য
কৃষি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা গ্রহণের সুযোগ
কৃষি বিমার আওতায় ক্ষতিপূরণ সুবিধা
ফসল সরাসরি ন্যায্য মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিকে আরও লাভজনক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।