


বাগেরহাটের চিতলমারীতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের দায়ে এনজিও কর্মীদের দ্বারা নিয়ে যাওয়া বদনা, নাকফুল ও আংটি অবশেষে ফেরত পেলেন গৃহবধূ শ্রাবণী হীরা। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ডিএফইডি) কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ডিএফইডি'র কর্মকর্তারা গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে এবং তার শখের দুটি বদনা, নাকফুল ও আংটি এবং ফাঁকা দুটি স্ট্যাম্প তাকে ফেরত দেন। গৃহবধূ শ্রাবণী হীরা এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। ডিএফইডি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে শ্রাবণী তার সুবিধামতো খেলাপী ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।
এই ঘটনায় ডাম ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার সাহিদুল কবীর জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট শাখার ম্যানেজার বাসুদেব দেবনাথ এবং মাঠকর্মী নেওয়াজ শরীফকেসাময়িক বরখাস্ত করেছেন। এছাড়াও, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরীক্ষা) মো. মনিরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গৃহবধূ শ্রাবণী হীরা ডাম এনজিওর চিতলমারী শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তার স্বামী রিপন রায় এলাকা ছাড়ার পর তিনি কিস্তি খেলাপী হন। গৃহবধূর অভিযোগ ছিল যে ২৯ অক্টোবর এনজিও কর্মীরা তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ২টি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে তার অলংকার ও বদনাগুলো নিয়ে যান। অন্যদিকে, ডিএফইডি'র নরসিংদী জোনাল ম্যানেজার তৌহিদুল ইসলাম জানান যে শ্রাবণী হীরা অভাবের কারণে স্বেচ্ছায় এই জিনিসগুলো দিয়েছিলেন এবং পরে ৯ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে তিনি মালামাল ফেরত নেন।