


সাকিব আল হাসান, যিনি এক সময়ের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত ছিলেন, বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার দেশে অবস্থান না করার প্রধান কারণ হলো তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ। সাকিব জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রতীকে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার কারণে তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে ছাত্রদের আন্দোলনের সময় সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সাকিব দেশের বাইরে চলে যান। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়। এর কারণে তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারছেন না; গত ১৩ মাস ধরে তিনি জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন। যদিও তিনি বিদেশে বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশ নিয়েছেন, জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন না।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা থাকায় প্রশ্ন উঠেছে, সেক্ষেত্রে সাকিব দেশে ফিরতে পারবেন কি না। সম্প্রতি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা-১৬ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক বলেন, সাকিবের বিরুদ্ধে মামলা তৎকালীন সরকারের প্রভাবেই দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যেহেতু সাকিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে মামলা হয়েছে, এটা অবৈধ সরকারের অংশ হিসেবে হয়েছে। যে সরকার মানুষকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও হত্যার মতো কাজ করেছে, তার দায়ভার নিতে হবে।”
আমিনুল হক আরও বলেন, একজন সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও অধিনায়কের প্রতি এই ধরনের মামলা-হামলা অনুচিত। তিনি নিজেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময় মামলা, হামলা, শারীরিক নির্যাতন এবং গুলিবিদ্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কোনো খেলোয়াড় বা নাগরিকের ওপর রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে জুলুম বা নির্যাতন হবে না।
আমিনুলের মতে, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হচ্ছে ভিন্নমত থাকা, এবং সেই অধিকার সঠিকভাবে রক্ষা করা হলে কোনো খেলোয়াড় কিংবা নাগরিক রাজনৈতিক চাপ বা দমননীতি থেকে নিরাপদ থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে, সাকিবের দেশে ফিরার বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের সরকারী নীতির ওপর নির্ভর করছে।