


অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে মৌলভীবাজার জেলা ও নেত্রকোনা জেলা–এর নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় সিলেট বিভাগেরসহ মোট তিনটি জেলায় নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অবিরাম ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এর মধ্যে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার জেলা ও নেত্রকোনা জেলা–এর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এসব অঞ্চলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আশপাশের আরও তিনটি জেলায়—সিলেট জেলা, হবিগঞ্জ জেলা ও সুনামগঞ্জ জেলা—নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানিয়েছেন, এসব এলাকায় নদ-নদীর পানি ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে এবং বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তিনি জানান, বর্তমান আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী অন্তত পাঁচ দিন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ১৬১ মিলিমিটার, ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার।
এছাড়া দেশের চারটি নদী—ভুগাই, কংস, সোমেশ্বরী ও মগরা—এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি নদী নেত্রকোনা অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে বন্যার ঝুঁকি আরও বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছোট আকারের এসব নদীতে অল্প সময়ের ভারি বৃষ্টিতেই পানি দ্রুত বেড়ে যায় বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে নতুন করে আরও এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।