


পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খেয়েছে সফরকারী পাকিস্তান। দলের সেরা ব্যাটার বাবর আজম চোটের কারণে প্রথম টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন। টসে জিতে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে ঘরের মাঠে ব্যাট হাতে ইনিংস শুরু করেছে টাইগাররা।
মিরপুর টেস্ট ঘিরে শুরু থেকেই ছিল বাড়তি উত্তেজনা। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই পাকিস্তান শিবিরে নেমে আসে দুশ্চিন্তা। অনুশীলনের সময় বাঁ হাঁটুতে চোট পান দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার বাবর আজম। গুরুতর অস্বস্তি অনুভব করার পর সঙ্গে সঙ্গেই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। পরে তার এমআরআই স্ক্যান করানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র।
এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানায়, হাঁটুর চোটের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে খেলতে পারবেন না বাবর আজম। বর্তমানে মেডিকেল টিম তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। পরবর্তীতে তার চোটের বিষয়ে বিস্তারিত আপডেট জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
৩১ বছর বয়সী বাবরের অনুপস্থিতি পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনিই পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা। বিশেষ করে উপমহাদেশের কন্ডিশনে তার অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা পাকিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মিরপুর টেস্টে তাকে না পাওয়া পাকিস্তানের জন্য বড় ক্ষতি বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
এদিকে টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। মিরপুরের উইকেট সাধারণত সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্পিন সহায়ক হয়ে ওঠে। সেই বিবেচনায় শুরুতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে পরে সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনাই করেছে সফরকারীরা।
বাংলাদেশ দলও এই ম্যাচে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ব্যাটিং বিভাগে রয়েছেন মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা। অন্যদিকে বোলিং আক্রমণে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও ইবাদত হোসেন।
পাকিস্তান দলে বাবর না থাকলেও ব্যাটিংয়ে আছেন ইমাম-উল-হক, সৌদ শাকিল ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। বোলিং বিভাগে নেতৃত্ব দেবেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। তার সঙ্গে আছেন নোমান আলী, হাসান আলী ও অভিজ্ঞ পেসার মুহাম্মদ আব্বাস।
মিরপুরের উইকেট সবসময়ই স্পিনারদের জন্য সহায়ক হিসেবে পরিচিত। ফলে ম্যাচ যত এগোবে, স্পিনারদের ভূমিকা তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণকে সামাল দিতে পাকিস্তানের ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে। একইভাবে বাংলাদেশের ব্যাটারদেরও সামলাতে হবে শাহিন আফ্রিদিদের পেস আক্রমণ।
বাবর আজমকে ছাড়াই মাঠে নামা পাকিস্তান এবং ঘরের মাঠে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ-দুই দলের লড়াইয়ে মিরপুর টেস্টে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের দিকেই।