


জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরেই মেগাসিটি ঢাকার বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও বর্তমানে ঢাকার বায়ুমান আবারও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ছিল ২৭১। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
একই সময়ে ২১৫ একিউআই স্কোর নিয়ে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেক দ্বিতীয় এবং ২০৮ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের করাচি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তিনটি শহরের বাতাসকেই নাগরিকদের জন্য ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, একিউআই স্কোর ০–৫০ হলে তা ভালো, ৫১–১০০ মাঝারি এবং ১০১–১৫০ সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১–২০০ স্কোরকে অস্বাস্থ্যকর বলা হয়, আর ২০১–৩০০ হলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই মাত্রায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একিউআই ৩০১ ছাড়িয়ে গেলে পরিস্থিতি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হয়ে ওঠে, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। সাধারণত বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ও ওজোনের মাত্রা বিশ্লেষণ করে একিউআই নির্ধারণ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য এটি বেশি বিপজ্জনক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
বায়ুদূষণের ফলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।