Date: April 27, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতেই তেলের দামে আগুন! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতেই তেলের দামে আগুন!

April 27, 2026 10:37:16 AM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতেই তেলের দামে আগুন!

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে হঠাৎ করেই বড় উত্থান দেখা দিয়েছে তেলের দামে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার খবরে বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ, যার প্রভাব পড়েছে সরাসরি অপরিশোধিত তেলের দামে। এই পরিস্থিতি জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বাড়তি চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিশ্ববাজারে তেলের মূল্য নির্ধারণের অন্যতম প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম পৌঁছে যায় ১০৭ দশমিক ৩৫ ডলারে, যা একদিনেই ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি। বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে।

বর্তমান এই দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ বেশি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জন্য এটি অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন, বিদ্যুৎ এবং শিল্প খাতে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, যা বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

তবে এই অস্থিরতার মধ্যেও এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। জাপানের নিকেই ২২৫ সূচক টোকিওতে সকালের লেনদেনে প্রায় ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকও প্রায় ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীরা আপাতত ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার ওপর আস্থা রাখছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তাহলে তেলের বাজারে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।