


শরীয়তপুরে তেল মজুত রেখে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি না করার অভিযোগে এক ফিলিং স্টেশনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে মেসার্স পাইলট ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কেএম রাফসান রাব্বির নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ফিলিং স্টেশনটি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি না করে রিজার্ভে রেখে দেয়, ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে পৃথক দুটি অপরাধে মোট ৫০ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কেএম রাফসান রাব্বি জানান, জ্বালানি তেল সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন, যা অভিযানের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তোলে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থায় সরকার কড়াকড়ি আরোপ করেছে। কোথাও কোথাও সীমিত সরবরাহ, অনিয়মিত বিক্রয় এবং অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় প্রশাসন মাঠে সক্রিয় হয়েছে। এসব অনিয়ম রোধে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অনিয়মে জড়িত ফিলিং স্টেশন ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে বাজারে মাঝে মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হলেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়মিত তদারকি ও অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।