


বলিউড তারকা হৃতিক রোশন শনিবার সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে নিজেরসোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন , “আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালিরক্তটাই বুঝি এভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ” তাঁর এই মন্তব্য ওছবিগুলো খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে গেছে , আর নেটিজেনদের কৌতূহলবেড়েছে , আসলে হৃতিক রোশনের সঙ্গে বাঙালির যোগ কোথায় ?
বছরেরশুরুতেই হৃতিক একের পর এক ছবিশেয়ার করছেন। জানুয়ারি মাস তাঁর জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রায় ২৬ বছর আগেএই মাসেই মুক্তি পেয়েছিল তাঁর প্রথম ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায় ’। এছাড়া ১৯৭৪সালের ১০ জানুয়ারি জন্মগ্রহণকরেছিলেন হৃতিক। বয়স ৫০ পেরিয়েও জনপ্রিয়তাবা ‘ক্রেজ ’ কমেনি , বরং বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে নারীভক্তদের কাছে তিনি আজও বলিউডের ‘গ্রিক গড ’।
হৃতিকেরবাঙালি যোগ আসে তাঁর দাদি ইরা রোশন (জন্মনাম ইরা মৈত্র ) থেকে। ইরা মাত্র ২০ বছর বয়সেকলকাতা ছেড়ে অল ইন্ডিয়া রেডিওতেকাজ করতে যান। গান ছিল তাঁর নেশা। পরে তিনি সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন , যা ছিল রোশনলালের দ্বিতীয় বিয়ে। সুখের সংসারে জন্ম নেন দুই ছেলে —রাকেশ ও রাজেশ। তবেহঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মারা যান রোশন লাল। দুই ছেলে স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান।
ইরারোশন ছিলেন পরিবারের শক্ত ভিত। রান্না বিশেষ করে মাছের পদ ছিল তাঁরবিশেষত্ব। ছোটবেলা থেকেই হৃতিক ছিলেন ইরার আদরের নাতি। ইরা হৃতিককে ডাকতেন ‘ডুগগু ’—যদিও রাকেশের ডাকনাম ছিল ‘গুড্ডু ’। শোনা যায় , রোশন পরিবারের শেষ কথা বলতেন ইরাই , আর তাঁর হাতেররান্না করা মাছ ছিল হৃতিকের প্রিয়। কাকতালীয়ভাবে হৃতিকের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্সও হয়েছিল কলকাতায়। দাদিকে ডাকতেন ‘ঠামি ’, তবে বাংলা শেখা হয়নি হৃতিকের। তবু কলকাতায় গেলে আজও দাদির কথা মনে পড়ে —মাছভাত , আদর ও শাসনের স্মৃতিতাঁকে টানে।
ইরারোশন ২০০৫ সালের ২২ জানুয়ারি চলেযান। শৈশবের সেই আশ্রয় হারান হৃতিকও। আর আজ , নতুনবছরের শুরুতে নিজের কিছু ছবি পোস্ট করে তিনি যেন সেই সোনালি স্মৃতির দিকে ফিরে গেছেন —“আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালিরক্তটাই বুঝি এভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ”