


বগুড়া শহরের কৈগাড়ি ফুলতলা থেকে সাতমাথা পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো পথচারী ও যানবাহন ব্যবহারকারীকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক দশক ধরে বড় কোনো সংস্কার কাজ না হওয়ায় পুরো সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙাচোরা এই সড়কে যাতায়াতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি সময় লাগছে। এছাড়া সড়কের বেহাল দশার অজুহাতে রিকশা ও ইজিবাইক চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
সড়কটির গুরুত্ব বিবেচনা করলে দেখা যায়, এর আশপাশেই অবস্থিত বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়, মৎস্য ভবন, বিএসটিআই অফিস, সাবেক উপজেলা পরিষদ ভবন ও কৈগাড়ি পুলিশ ফাঁড়িসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীকে এই পথেই যাতায়াত করতে হয়। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কেন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বর্ষা মৌসুমে এই সড়কের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সড়কটি আশপাশের এলাকার তুলনায় নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান পানি জমে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো থাকায় ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা ও পচা পানি সড়কে উপচে পড়ে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, সড়কটি এখন দুর্ঘটনার মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অবিলম্বে সড়কটির সংস্কার ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে জনদুর্ভোগ আরও চরমে পৌঁছাবে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।