


বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত ও গোপন যোগাযোগের যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের জাঠিভাঙ্গা বধ্যভূমি চত্বরে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন।
বিশিষ্ট চিন্তক ফরহাদ মজহারের একটি লেখাকে উদ্ধৃত করে মির্জা ফখরুল বলেন, “জামায়াতের সাথে আমেরিকার গোপন আঁতাত বাংলাদেশের জন্য ভালো নয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা দিল্লিরও নই, রাওয়ালপিন্ডিরও না; আমরা বাংলাদেশি। দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন যে-কোনও পদক্ষেপের ঘোর বিরোধী বিএনপি।”
জাঠিভাঙ্গা বধ্যভূমি স্মরণ করে তিনি বলেন, “আপনাদের ১৯৭১ সালের কথা মনে আছে, যুদ্ধের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই। ১৯৭১ সালে এখানেই বর্বর গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল, এখানকার বধ্যভূমি তারই সাক্ষী। যারা গণহত্যা চালিয়েছিল, তাদের সেই সহযোগীরাই আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছে। আমরা এমন কাউকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারি না যারা আমাদের স্বাধীনতাকেই স্বীকার করেননি।”
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ফখরুল আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পরিকল্পনায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যা হবে মা-বোনদের জন্য কার্যকর এক হাতিয়ার। এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নারীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১৮ মাসের মধ্যে দেশে দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। এটা আমাদের দলের চেয়ারম্যানের প্রতিশ্রুতি।”
কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা নানা সুযোগ-সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।”
আসন্ন নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “ঠাকুরগাঁও একটি কৃষি প্রধান এলাকা। এখানে প্রচুর সবজি, আম, লিচু, কমলা ও মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলমূল চাষ হচ্ছে। আমরা চাই, এসব সবজি ও ফলমূল সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থা করা হোক।”
স্থানীয় বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।