


কুয়েত থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গেই বুকের তীব্র ব্যথায় লুটিয়ে পড়েন ফেনীর পরশুরামের নুরুল ইসলাম সাগর (৩৫)। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বিদেশে আটক ও কারাভোগ শেষে দেশে ফেরার পর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত নুরুল ইসলাম সাগর ফেনীর পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শালধর গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন এবং একসময় চিথলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি কিছুটা সময় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে জীবিকার সন্ধানে কুয়েতে যান। তবে সেখানে গিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন এবং প্রায় ১৫ দিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরের ভেতরেই হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত প্রায় ২টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার জানায়, রাতেই পরশুরাম থানার পুলিশ ফোনে জানিয়ে দেয় যে বিমানবন্দরে নুরুল ইসলাম সাগরের মৃত্যু হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় গিয়ে মরদেহ গ্রহণ করেন।
নিহতের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, খবর পাওয়ার পর তারা গভীরভাবে ভেঙে পড়েন এবং দুই প্রতিবেশীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
এদিকে নিহতের ছোট বোন শেফালী আক্তার দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভাই মানসিক চাপে ছিলেন। তার মতে, দেশে ফেরার পর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই তিনি ভেঙে পড়েন এবং সেই চাপেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, কুয়েত থেকে আসা ফ্লাইটে ঢাকায় নামার পর বিমানবন্দরেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
অপ্রত্যাশিত এই মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিবার এখন প্রিয়জনের মরদেহ গ্রহণ করে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছে।