


দীর্ঘ ১০ বছর পর কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। গ্রেফতার সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা মিলিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম (পিবিআই) বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ২০১৭ সালে তৎকালীন তদন্ত সংস্থা সিআইডি তনুর পোশাক থেকে সংগৃহীত নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানিয়েছিল। তবে তখন সন্দেহভাজনদের সঙ্গে ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হয়নি। এবারই প্রথম কোনো সন্দেহভাজনের নমুনা পরীক্ষার জন্য নেওয়া হলো।
গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুর রহমানকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে কুমিল্লার আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে আদালতের অনুমতি নিয়ে তিন সন্দেহভাজন—সার্জেন্ট জাহিদ, হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা মামলা দায়ের করেন।
বহু বছর ধরে পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২০ সালে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের আশা করা হচ্ছে।