


দীর্ঘ রাজনৈতিক নাটকীয়তা, জোট আলোচনা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানাপোড়েনের পর অবশেষে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়। রোববার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে এসে প্রথমবারেই ক্ষমতায় বসে ইতিহাস গড়লেন ৫১ বছর বয়সী এই তারকা নেতা।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিজয়ের সঙ্গে আরও নয়জন মন্ত্রী শপথ নেন। নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক পটভূমি থেকে আসা নেতারা। এর মধ্যে রয়েছেন কেএ সেনগোত্তাইয়ান, যিনি নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে একসময় এআইএডিএমকে থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
বিজয়ের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা আধব অর্জুনও শপথ নিয়েছেন। তামিলাগা ভেত্রি কাজাখাম (টিভিকে)-র নির্বাচনী জয়ের পেছনে তাকে অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি লটারি ব্যবসায়ী সান্টিয়াগো মার্টিনের জামাই হিসেবেও পরিচিত।
নতুন মন্ত্রিসভায় আরও রয়েছেন নির্মল কুমার, যিনি বিজেপি ছেড়ে বিজয়ের দলে যোগ দিয়েছিলেন। মাদুরাইয়ের তিরুপারানকুন্দ্রম আসন থেকে জয়ী হয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এছাড়া দলের সাধারণ সম্পাদক আনন্দও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দলীয় সংগঠন শক্তিশালী করতে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চেন্নাইয়ের টিনগর আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় থাকা অভিনেতা রাজ মোহন, চিকিৎসক টিকে প্রভু ও চিকিৎসক অরুণ রাজও আলোচনায় রয়েছেন। অরুণ রাজ একসময় আইআরএস কর্মকর্তা ছিলেন। সরকারি চাকরি ছেড়ে বিজয়ের দলে যোগ দেন তিনি। চেন্নাইয়ের মায়লাপুর আসন থেকে নির্বাচিত পি ভেঙ্কটারামননকে বিজয় সরকারের ‘ব্রাহ্মণ মুখ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য কীর্তন, যিনি বিরুধুনগর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন।
তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টিতে জয় পায়। তবে এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় টানা পাঁচ দিন জোট নিয়ে আলোচনা চালাতে হয় তাকে। এ সময় রাজ্যপালের সঙ্গে চার দফা বৈঠকও করেন বিজয়।
শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের সমর্থন নিশ্চিত করে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যা অর্জন করেন তিনি। দুইটি আসনে নির্বাচিত হওয়ায় একটি আসন ছাড়তে হবে বিজয়কে। এরপরও তার জোটের মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়াবে ১২০ জনে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সরকার গঠন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ প্রায় ৬০ বছর পর ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো দল রাজ্যে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলো। ফলে দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।