


যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ থাকার আট দিন পর বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে গভীর শোক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যে একই ঘটনায় আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশি তদন্ত চলছে, তবে পুরো ঘটনা ঘিরে রহস্য এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে নাহিদার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। পরে গণমাধ্যমকে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে ফোন করে এই দুঃসংবাদ দেয়।
জাহিদ হাসান প্রান্তের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ জানিয়েছে বাসার ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া একটি মৃতদেহের অংশের সঙ্গে নাহিদার ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় তদন্তকারী সংস্থা। এই তথ্য পুরো ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ ও রহস্যময় করে তুলেছে।
এর আগে একই ঘটনায় নিখোঁজ থাকা আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পা এলাকায় হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হিশাম আবুঘরবেহ (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, যিনি জামিল লিমনের রুমমেট ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, এই ঘটনাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকতে পারে, যদিও তদন্ত এখনো চলমান।
নিহত দুই শিক্ষার্থীই যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ট্যাম্পায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। জামিল লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে গবেষণা করছিলেন, আর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পিএইচডি করছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল সর্বশেষ তাদের দেখা গিয়েছিল। সেদিন সকাল ৯টার দিকে জামিলকে তার ছাত্রাবাসের কাছে দেখা যায়, আর সকাল ১০টার দিকে নাহিদাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, যা সহপাঠী ও পরিচিতদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।