


নোয়াখালীর কবিরহাট, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলায় টানা ২৪ ঘণ্টায় পৃথক বজ্রাঘাতের ঘটনায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিক এ দুর্ঘটনাগুলোতে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নে বজ্রাঘাতের পর সৃষ্ট তীব্র শব্দে আতঙ্কিত হয়ে তানজিনা আক্তার (১৭) মারা যান। তিনি স্থানীয় ইসমাইলিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, তানজিনা গত বছর দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলায় শীর্ষ ফল অর্জনকারীদের একজন ছিলেন। বজ্রপাতের শব্দে মানসিকভাবে শকে তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে সোমবার দুপুরে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নে বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় বজ্রাঘাতে মো. আয়মান (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে স্থানীয় রফিক মিয়ার ছেলে। আহত অবস্থায় তাকে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একই দিন হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নে মাঠ থেকে বাদাম তুলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান আরাফাত হোসেন (২২)। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, মায়ের সামনেই তিনি বজ্রপাতের শিকার হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পৃথক এই ঘটনাগুলোর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সুরতহাল শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট থানার ওসিরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বজ্রপাতের এই ধারাবাহিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এমন আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।