Date: February 10, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / রাজশাহী / প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা, হতাশায় লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবক - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রক...

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা, হতাশায় লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

February 04, 2026 06:15:25 PM   অনলাইন ডেস্ক
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা, হতাশায় লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবক

রায়হানুল ইসলাম, বগুড়া:
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল বৃত্তি পরীক্ষা। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই পরীক্ষাকে ঘিরে প্রতি বছরই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে এক ধরনের উৎসবমুখর প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যেত। কিন্তু চলতি বছর কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় সারাদেশে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এতে করে মেধা যাচাইয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় পড়েছে লাখো শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ।
পঞ্চম শ্রেণির পাঠ চুকিয়ে শিক্ষার্থীরা এখন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পদার্পণ করেছে। অথচ পঞ্চম শ্রেণির সেই বৃত্তি পরীক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কাটেনি ধোঁয়াশা। বগুড়া সিটি বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজওয়ানা রিমুর কণ্ঠেও ঝরল সেই হতাশার সুর। সে জানায়, পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তারা দিন-রাত এক করে বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে গেছে, হাতে নতুন ক্লাসের নতুন বই।
রিমু আক্ষেপ করে বলে, “আমরা এখন ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন কারিকুলাম ও বই নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছি। এই সময়ে হঠাৎ যদি পেছনের ক্লাসের বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়, তবে তা আমাদের জন্য বড় মানসিক চাপের কারণ হবে। একে তো পরীক্ষা হচ্ছে না, তার ওপর নতুন ক্লাসের পড়া সব মিলিয়ে আমরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
শিক্ষার্থীদের এই মানসিক বিপর্যয়ের বিষয়টি ভাবিয়ে তুলছে শিক্ষকদেরও। নিশিন্দারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোহেলী খন্দকার বলেন, “অনিবার্য কোনো কারণবশত হয়তো কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি বন্ধ রেখেছেন। কিন্তু এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে কোমলমতি শিশুদের ওপর। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর পরীক্ষা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।”
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে মেধা যাচাইয়ের এই সুযোগ বন্ধ থাকলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুরা যে স্বীকৃতি পেত, তা তাদের পরবর্তী শিক্ষা জীবনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করত।
বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যেও প্রস্তুতির ব্যাপকতা উঠে এসেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজোয়ান হোসেন জানান, শুধুমাত্র বগুড়া জেলাতেই ১১ হাজার ৭৩৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় ছিল। তিনি বলেন, “মাঠ পর্যায়ে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে কেন্দ্র বা মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা এলেই আমরা পরীক্ষা নিতে পারব।”
এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, বছরের শুরু থেকে ছেলে-মেয়েদের এই পরীক্ষার জন্য আলাদাভাবে কোচিং ও প্রাইভেট পড়িয়েছেন তারা। এখন পরীক্ষা না হলে সেই শ্রম ও অর্থের পুরোটাই জলে যাবে।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও মেধা বিকাশে বৃত্তি পরীক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত এই ধোঁয়াশা কাটানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্তই কেবল লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের এই অনিশ্চয়তা দূর করতে পারে।