


ঝিনাইদহ জেলায় চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফরম পূরণ করেও ২২৬ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। গত বছরও অনুপস্থিতির সংখ্যা ছিল ২১৩, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় মোট প্রার্থী ছিল ১২ হাজার ৮৯৩ জন। প্রথম দিন অনুপস্থিত ছিল ১৬০ জন ছাত্রী ও ৪৮ জন ছাত্র। দাখিল পরীক্ষায় ২ হাজার ৫৭২ জনের মধ্যে অংশ নেয় ২ হাজার ৪৩৯ জন এবং ভোকেশনালে ১ হাজার ১১৬ জনের মধ্যে অংশ নেয় ১ হাজার ৯৬ জন শিক্ষার্থী।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) নারায়ণ চন্দ্র পাল জানান, জেলায় মোট ১৬ হাজার ৫৮১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নিয়েছে ১৬ হাজার ২২০ জন। অনুপস্থিত ছিল ৩৬১ জন। এসএসসিতে ২ শতাংশ, দাখিলে ৫ শতাংশ এবং ভোকেশনালে ২ শতাংশ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত।
স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানরা জানান, অনুপস্থিত অধিকাংশ ছাত্রী মফস্বলের বিভিন্ন স্কুলের। তারা কেন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের নির্বাহী প্রধান আব্দুর রহমান বলেন, গত বছর তদন্তে দেখা গেছে—অনুপস্থিতির বড় কারণ ছিল বাল্যবিয়ে। এবারও একই কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মুন্সি ফিরোজা সুলতানা জানান, প্রশাসনের উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিভাবক গোপনে বাল্যবিয়ে দিচ্ছেন, যা প্রতিরোধে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, গত বছরের মতো এবারও অনুপস্থিতির পেছনে বাল্যবিয়েই প্রধান কারণ হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।