Date: May 13, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / আন্তর্জাতিক / ব্যক্তিগত জ্যোতিষী নিয়োগ নিয়ে তুমুল বিতর্ক, একদিনেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় - দ...

ব্যক্তিগত জ্যোতিষী নিয়োগ নিয়ে তুমুল বিতর্ক, একদিনেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

May 13, 2026 09:10:06 PM   আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ব্যক্তিগত জ্যোতিষী নিয়োগ নিয়ে তুমুল বিতর্ক, একদিনেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের একটি সিদ্ধান্ত। নিজের ব্যক্তিগত জ্যোতিষীকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি)’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। রাজনৈতিক চাপ ও মিত্রদলগুলোর তীব্র আপত্তির পর মাত্র একদিনের মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন বিজয়। ঘটনাটি ঘিরে রাজ্যজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

বুধবার (১৩ মে) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যখন জানা যায় বিজয়ের ঘনিষ্ঠ জ্যোতিষী রিকি রাধান পণ্ডিত ভেট্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে ওএসডি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং বিষয়টি দ্রুতই জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় চলে আসে।

ঘটনার পরপরই বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্রি কালাগাম (টিভিকে)-এর জোট ও সমর্থক দলগুলোর মধ্যে অস্বস্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে বামপন্থী দল সিপিআই (এম) এবং সিপিআই প্রকাশ্যে এই নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করে। তারা অভিযোগ তোলে যে, জনগণের করের টাকায় কুসংস্কারভিত্তিক বিশ্বাসকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় স্থান দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সিপিআই (এম)-এর রাজ্য সম্পাদক পি শানমুগাম বলেন, জ্যোতিষীকে সরকারি পদে বসানো মানে কুসংস্কারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া, যা আধুনিক প্রশাসনিক নীতির পরিপন্থী। একই ধরনের সমালোচনা করেন সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক এম ভিরাপান্ডিয়ানও। তাদের মতে, সরকারি দপ্তরে বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারা ও যুক্তিবাদকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, কোনোভাবেই অন্ধবিশ্বাসকে নয়।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের পাশাপাশি মিত্রদলগুলোর মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। ভিসিকে বিধায়ক বাণী আরসু মন্তব্য করে বলেন, সরকারকে অবশ্যই বিজ্ঞানমনস্কতা অনুসরণ করতে হবে এবং কুসংস্কারকে প্রশ্রয় দেওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে। তার মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত জনমনে ভুল বার্তা দেয়।

ডিএমডিকে নেত্রী প্রেমলতা বিজয়কান্তও এই নিয়োগের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তরুণ ভোটারদের সামনে এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। জ্যোতিষী যদি ব্যক্তিগত পর্যায়ে থাকেন, সেটি এক বিষয়, কিন্তু সরকারি পদে তাকে বসানো সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দেয়।

চাপ বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় একদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন। যদিও এই ঘটনার পরও টিভিকে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেনি বাম দল ও ভিসিকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা বিজয়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। শুরুতেই এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বর্তমানে এই ঘটনা তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।


সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে