


আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এ ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো। এবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে মোট ১৪টি মুসলিম দেশ, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে দাবি করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাট চালুর ফলে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে মুসলিম দেশগুলোর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আগে কখনো এত বেশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ একসঙ্গে জায়গা করে নিতে পারেনি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে যেখানে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৬, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-তে। শতাংশের হিসেবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রায় ৩০ শতাংশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ।
মহাদেশভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মুসলিম দেশ এসেছে এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে। এশিয়া থেকে অংশ নিচ্ছে সৌদি আরব, কাতার, জর্ডান, ইরান, ইরাক এবং উজবেকিস্তান।
অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে খেলবে নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিশর এবং সেনেগাল। ইউরোপ অঞ্চল থেকে অংশ নিচ্ছে তুরস্ক ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
তবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চল থেকে এবার কোনো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি।
বিশ্বকাপের নতুন ৪৮ দলের ফরম্যাটকে এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দল সংখ্যা বাড়ার ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো আগের তুলনায় বেশি সুযোগ পেয়েছে। এতে ফুটবলের বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্বও আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এবারের বিশ্বকাপে কয়েকটি মুসলিম দেশ দীর্ঘ বিরতির পর ফিরছে, যা সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। প্রায় ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে তুরস্ক। অন্যদিকে প্রায় ৪০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে দেখা যাবে ইরাক–কে।
বিশেষ নজর থাকবে মরক্কো–র দিকেও। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি। এবারও দলটি ভালো কিছু করতে পারে বলে আশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম দেশগুলোর এই বাড়তি অংশগ্রহণ বিশ্ব ফুটবলের ভৌগোলিক ভারসাম্য ও প্রতিযোগিতাকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে।