


২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে টিকিটের দাম নিয়ে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ফাইনাল ম্যাচের জন্য পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে মাত্র চারটি টিকিটের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটি টাকারও বেশি। এই অস্বাভাবিক মূল্য সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশ্বকাপ দেখাকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা সম্প্রতি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর টিকিট বিক্রির নতুন ধাপ শুরু করেছে। তবে প্রত্যাশার বিপরীতে এই ধাপে উচ্ছ্বাসের বদলে দেখা দিয়েছে ব্যাপক অসন্তোষ ও সমালোচনা। বিশেষ করে ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতির কারণে টিকিটের দাম চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত বাড়ছে, যা ভক্তদের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, টিকিটের দাম স্থির নয়। বরং চাহিদা বেশি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দাম বেড়ে যায়। এই নীতির ফলে অনেক সাধারণ দর্শক শুরু থেকেই প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে দাম কমার সুযোগ খুবই সীমিত, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা বাড়তেই থাকে।
ক্রীড়া অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উত্তর আমেরিকার বাজার বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে খেলাধুলায় উচ্চ ব্যয়ের প্রবণতা রয়েছে। ফিফা এই বাজারকে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ রাজস্ব অর্জনের কৌশল নিয়েছে, যা টিকিটের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টিকিটের উচ্চমূল্যকে সমর্থন করে বলেছেন, বিশ্বকাপ চার বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয় এবং এটি থেকেই সংস্থার প্রধান আয় আসে। এই আয় বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে সমালোচকদের মতে, এই যুক্তি দিয়ে এত উচ্চ মূল্যকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। তাদের অভিযোগ, এতে ফুটবল তার মূল পরিচয়—‘জনগণের খেলা’—হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে।
আগের প্রতিশ্রুতিতে তুলনামূলক সাশ্রয়ী টিকিটের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার সংখ্যা খুবই সীমিত। অধিকাংশ টিকিটের দাম কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের সর্বোচ্চ টিকিট মূল্য অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
ফিফা দাবি করছে, টিকিট বিক্রি ভালো হচ্ছে এবং দর্শকদের আগ্রহও ব্যাপক। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু ম্যাচে এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিকিট অবিক্রিত রয়েছে, যার ফলে সংস্থাকে নতুন ধাপে টিকিট ছাড়তে হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটবল ভক্তদের ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই বলছেন, একটি ম্যাচের টিকিটের দামে আন্তর্জাতিক ভ্রমণসহ ক্লাব ফুটবল দেখা সম্ভব। কারও কারও মতে, “ফুটবল এখন ধনীদের খেলায় পরিণত হচ্ছে।”
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর টিকিট মূল্যনীতি নিয়ে ফিফার সিদ্ধান্ত ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য থাকলেও সাধারণ দর্শকদের মাঠে উপস্থিতি নিয়ে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।