Date: April 25, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / খুলনা / দর্শনা প্রেসক্লাবে মাদক কারবারিদের হামলা, সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

দর্শনা প্রেসক্লাবে মাদক কারবারিদের হামলা, সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম

April 25, 2026 07:11:02 PM   জেলা প্রতিনিধি
দর্শনা প্রেসক্লাবে মাদক কারবারিদের হামলা, সাংবাদিককে পিটিয়ে জখম

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা প্রেসক্লাবে ঢুকে এক সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর ও তার মোবাইল ফোন ভাঙচুর করেছে মাদক কারবারিদের একটি দল। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, আজিমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে চঞ্চলসহ কয়েকজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শুক্রবার রাতে প্রেসক্লাবের আশেপাশে আপত্তিকর আচরণ করছিল। তারা জনসমক্ষেই প্রেসক্লাবের দেয়ালে প্রস্রাব করে এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে গালিগালাজ শুরু করে। প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নান এই আচরণের প্রতিবাদ করলে চঞ্চল তার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে আঘাত করে।

আব্দুল হান্নান নিজেকে বাঁচাতে দৌড়ে প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরেই চঞ্চলের নেতৃত্বে আরও ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসী জোর করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তারা পরিকল্পিতভাবে ঘরের লাইট বন্ধ করে দেয় এবং অন্ধকারের মধ্যে হান্নানকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। সন্ত্রাসীরা এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও ভেঙে ফেলে।

খবর পেয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি জানান, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। সাংবাদিকদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই হামলার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে দর্শনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাবে ঢুকে এমন তণ্ডব চালানো মূলত গণমাধ্যমকে ভয় দেখানোর একটি চেষ্টা। এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত হামলা। তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে। অন্যথায় তারা রাজপথে বড় ধরণের আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন।

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রেসক্লাবের মতো জায়গা যদি নিরাপদ না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। সাংবাদিকরা বর্তমানে এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।