


যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ অবশেষে দেশে পৌঁছেছে। শনিবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ বহনকারী বিমান অবতরণ করে। এসময় বিমানবন্দরে উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একই ঘটনায় নিহত আরেক বাংলাদেশি গবেষক জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহও কয়েকদিন আগে দেশে আনা হয়। দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে শোক নেমে এসেছে দেশের শিক্ষা অঙ্গনজুড়ে।
শনিবার (৯ মে) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। বিমানবন্দরে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনের মরদেহ গ্রহণ করতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ৮টা ৫০ মিনিটে তার মরদেহ বহনকারী ফ্লাইটটি বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দেয়। কয়েক দফা ট্রানজিট শেষে শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে বিমানটি।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও নির্মম হত্যাকাণ্ডে তার জীবনের পথ থেমে যায়। একই ঘটনায় নিহত হন আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত ছিলেন। গত ৪ মে লিমনের মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।
এই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের সহপাঠী ও শিক্ষকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে, নিহত দুই বাংলাদেশি গবেষকের একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ তাদের মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই ঘোষণাকে সম্মানজনক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন করুণ মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারগুলোর আহাজারি আর অসমাপ্ত স্বপ্নের গল্প এখন শুধু বেদনার স্মৃতি হয়ে রইল।