Date: May 06, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / ঢাকা / রাজবাড়ীতে ৪২ কেজিতে মণ না দেওয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট, বিপাকে কৃষক - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকা...

রাজবাড়ীতে ৪২ কেজিতে মণ না দেওয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট, বিপাকে কৃষক

May 05, 2026 10:06:35 PM   জেলা প্রতিনিধি
রাজবাড়ীতে ৪২ কেজিতে মণ না দেওয়ায় পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট, বিপাকে কৃষক

বোরহান উদ্দিন, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় ‘ধলতা’ নামে ৪২ কেজিতে মণ নির্ধারণে আপত্তি জানিয়ে পেঁয়াজ ক্রয় বন্ধ করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে বিপাকে পড়েছেন পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা শতাধিক কৃষক।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে বহরপুর ও সোনাপুর বাজারে হঠাৎ করেই পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে চলে যান। অভিযোগ উঠেছে, তারা সংঘবদ্ধভাবে এ সিদ্ধান্ত নেন। ফলে বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে আসা কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা সোনাপুর বাজারে পেঁয়াজ ফেলে বিক্ষোভ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানা গেছে, এর আগের দিন সোমবার বালিয়াকান্দি উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পেঁয়াজ ও আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ে ওজন সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিরোধে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমানের কাছে কৃষকেরা অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীরা ‘ধলতা’র নামে প্রতি মণে ৪ থেকে ৫ কেজি অতিরিক্ত পেঁয়াজ নিয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের পক্ষ থেকে প্রতি মণে ২ কেজি ‘ধলতা’ রাখার প্রস্তাব দেন। তবে বিষয়টি বেআইনি হওয়ায় ইউএনও তা প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্টভাবে জানান, মণ হবে ৪০ কেজিতেই—কোনো অতিরিক্ত ‘ধলতা’ গ্রহণযোগ্য নয়। এর প্রতিবাদেই মঙ্গলবার থেকে সোনাপুর ও বহরপুর বাজারে পেঁয়াজ ক্রয় বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।
বহরপুর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা বারুগ্রামের কৃষক বাদশা সিকদার বলেন, তিনি সকালেই ১৫ মণ পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন সব আড়ত বন্ধ। তার মতো আরও প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক সড়কে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেও কোনো ব্যবসায়ীর দেখা মেলেনি।

সোনাপুর বাজারের ইজারাদার রমজান আলী জানান, পরিস্থিতি সমাধানে কৃষক প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তারা উপজেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হবেন।

 

বোরহান উদ্দিন/রাজবাড়ী প্রতিনিধি

অন্যদিকে বহরপুর বাজারের ইজারাদার রুবেল আক্তার সুমনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনো ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘ধলতা’র নামে অতিরিক্ত পেঁয়াজ নেওয়া অন্যায়—এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ীই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।