


নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি আরিফ সরকারকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার পর বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষ দল তাকে দেশে নিয়ে আসে। গত বুধবার ৬ মে তাকে নরসিংদীর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আরিফ সরকার (৪০) শিবপুর উপজেলার পুটিয়া কামারগাঁও গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় তার বিরুদ্ধে আগেই আদালতের পরোয়ানা জারি হয়েছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে শিবপুর পৌর এলাকায় নিজ বাসায় হারুনুর রশিদ খানকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে একদল সন্ত্রাসী। গুরুতর জখম অবস্থায় দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর ওই বছরের ৩১ মে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তার ছেলে আমানুর রশিদ খান বাদী হয়ে আরিফ সরকারসহ কয়েকজনের নামে শিবপুর মডেল থানায় মামলা করেন।
প্রথমে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) নরসিংদী জেলা এর দায়িত্ব নেয়। তদন্ত চলাকালে এই মামলার আরেক আসামি মহসিনকেও ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করে দেশে আনা হয়েছিল। মহসিন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরিফ সরকারের সরাসরি জড়িত থাকার কথা জানান।
আরিফ সরকার বিদেশে পালিয়ে থাকায় তার অবস্থান নিশ্চিত করতে পিবিআই পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়। তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করার পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর পিবিআই আদালতে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয়।
সম্প্রতি দুবাই পুলিশ আরিফ সরকারকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশকে জানায়। এরপর পুলিশ সদর দপ্তর ও পিবিআইয়ের একটি বিশেষ টিম দুবাই গিয়ে তাকে নিয়ে আসে। গত বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে শিবপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই পুলিশ তাকে কড়া নিরাপত্তায় নরসিংদীর আদালতে পাঠায়।
দীর্ঘদিন পর এই মামলার অন্যতম হোতাকে গ্রেপ্তার করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও শিবপুরের সাধারণ মানুষ। তারা দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।