Date: April 19, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / ধর্ম / আজ ১৭ রমজান, বদর যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয়ের দিন - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

আজ ১৭ রমজান, বদর যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয়ের দিন

March 07, 2026 02:49:01 PM   অনলাইন ডেস্ক
আজ ১৭ রমজান, বদর যুদ্ধে মুসলিমদের বিজয়ের দিন

আজ ১৭ রমজান, ঐতিহাসিক বদর দিবস—মুসলিম উম্মাহর প্রথম সশস্ত্র বিজয়ের দিন। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে এই দিনে মদিনা থেকে প্রায় ৭০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম যুদ্ধ, যা শুধু সামরিক কৌশল নয়, বরং আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস, সাহস ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের এক উজ্জ্বল ইতিহাস।


মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাদের অস্ত্র-সজ্জা ছিল সীমিত; মুসলিম বাহিনীর মধ্যে ছিল মাত্র দুটি ঘোড়া ও ৭০টি উট। বিপরীতে কুরাইশদের সৈন্য সংখ্যা প্রায় এক হাজার, তাদের ছিল ১০০ ঘোড়া ও ৬০০ লৌহবর্মসহ আধুনিক সব রণসজ্জা। সংখ্যাগত ও সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে মুসলমানরা কম ছিলেন, কিন্তু আল্লাহর সাহায্যে তারা অসাধারণ বিজয় অর্জন করেন।

যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে মহানবী (সা.) আল্লাহর দরবারে আবেগপূর্ণ দোয়া করেছিলেন—‘হে আল্লাহ! আজ যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার মতো আর কেউ থাকবে না।’ আল্লাহ তায়ালা তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং মুসলিমদের বিজয় দান করেন। পবিত্র কোরআন ইতিপূর্বেই নির্যাতিত মুসলমানদের আত্মরক্ষার অনুমতি দিয়েছিল, যা বদরের ময়দানে বাস্তব হয়ে ওঠে।

বদরের যুদ্ধ শুধুমাত্র সামরিক কৌশলের গল্প নয়, বরং এটি ন্যায় ও অন্যায়ের চিরন্তন সংগ্রামের এক ইতিহাস। কুরাইশ বাহিনীর ৭০ জন নিহত হয় এবং আরও ৭০ জন বন্দি হয়, অন্যদিকে মুসলিমদের মধ্যে শহীদ হন মাত্র ১৪ জন। এ বিজয় প্রমাণ করে যে প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে ইমান ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসে, সংখ্যাগত ও সামরিক শক্তি নয়।

প্রতিবছর ১৭ রমজান বিশ্ব মুসলিমরা এই বিজয় এবং শহীদ সাহাবিদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে। এই দিন মুসলিম বিশ্বের শান্তি, সমৃদ্ধি ও ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক হিসেবে উদযাপিত হয়। বদরের শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—সংখ্যা নয়, সত্যের পথে দৃঢ় অবস্থান এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা প্রকৃত বিজয়ের চাবিকাঠি।

আজকের দিনে মুসলিম উম্মাহ দোয়া ও আলোচনা আয়োজন করে, বদরের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শান্তি, সাম্য এবং সহমর্মিতার আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে সুন্দর ও ন্যায়সঙ্গত পৃথিবী গঠনের নতুন প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করে।