Date: April 21, 2026

দৈনিক দেশেরপত্র

collapse
...
Home / সারাদেশ / বরিশাল / আমতলীতে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি! - দৈনিক দেশেরপত্র - মানবতার কল্যাণে সত্যের প্রকাশ

আমতলীতে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি!

July 26, 2025 07:05:50 PM   উপজেলা প্রতিনিধি
আমতলীতে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টা মামলার আসামি!

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি করার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার চাউলা গ্রামে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশুর বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার আবেদনে অভিযুক্ত শিশুর বয়স ১৫ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাউলা গ্রামের এক শিশুর (৭) বিরুদ্ধে একই গ্রামের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত শিশুটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র। তবে মামলার আবেদনে তার বয়স ১৫ বছর এবং তাকে ‘চরিত্রহীন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার অন্য আসামীরা হলেন- অভিযুক্তের পিতা নুরজামাল (৪৮), মাতা রুমা বেগম (৪৫), বোন রাজিয়া বেগম (১৯), ভাই মোঃ ইরাত (২৫)। মামলায় ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুর অবিভাবকদের উপর আসামীরা হামলা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযুক্ত শিশুর বাবা নুরুজ্জামান জানান, ঘটনাটি শিশুদের সাধারণ খেলাধুলা ও ঝগড়া থেকে উদ্ভূত। তিনি বলেন, “আমার ছেলে এবং প্রতিবেশী মেয়ে শিশু একসঙ্গে খেলছিল। খেলার একপর্যায়ে মেয়ে শিশুটি আমার ছেলের জুতা পুকুরে ফেলে দিলে তাকে তাড়া করে। এসময় দৌড়াতে গিয়ে মেয়ে শিশুটি পা পিছলে পড়ে গিয়ে আহত হয়। এই সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “আমরা চিকিৎসার খরচ দিতে চাইলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে পরিকল্পিতভাবে আমার নাবালক ছেলেসহ পুরো পরিবারকে ফাঁসাতে এই হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়ে শিশুর বাবা নাজমুল শিকদার মামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তিনি মেয়েকে নিয়ে পটুয়াখালী হাসপাতালে আছেন এবং এই বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে দুই শিশুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চাউলা আবু ইউসুফ নূরাণী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. হারুন অর রশিদ বলেন, “ওই দুইজনই নার্সারির নিয়মিত শিক্ষার্থী। তবে এটি তাদের পারিবারিক বিষয় হওয়ায় আমি মন্তব্য করতে অপারগ।”

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানিয়েছেন, “আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে ব্যবস্থা নেব।”